কালকিনিতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান॥ আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

 প্রকাশ: ২১ মে ২০২২, ০৮:২২ অপরাহ্ন   |   শিক্ষা


রিপোর্টঃ শেখ লিয়াকত আহম্মেদ। 

মাদারীপুরের কালকিনির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে স্বাধীনতার ১৯৭২সালে মাদারীপুরের কালকিনির প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত হয় “কালকিনি ডিগ্রি কলেজ”। তখন থেকে টিনের ঘরে চলছিলো শিক্ষা কার্যক্রম। এরপর ১৯৯২ সালে কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ নামে কলেজটি নামকরণ হলে একে একে তৈরী হয় নতুন নতুন ভবন। বর্তমানে প্রায় ৮একর জমির উপরে তিনতলা একাডেমীক, প্রশাসনিক,  লাইব্রেরি, আইটিসি, বিজ্ঞান ভবন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ছাত্রী হোস্টেল, অধ্যক্ষের বাসভবন সহ অন্যান্য ভবন। বর্তমানে কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স মিলিয়ে ১২ বিভাগে ৮০ জন শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৫ শহস্রাধিক।

দূর থেকে দেখলে মনে হবে সাজানো গোছানো পরিপাটি কলেজ ভবন। নতুন নির্মিত লাইব্রেরি ও আইটিসি ভবন ছাড়া কলেজের অধিকাংশ ভবনই জরাজীর্ণ, ইট-সুড়কি খসে পড়ছে। খসে পড়ছে বড় বড় ছাদের অংশ, বের হয়ে গেছে মরিচা ধরা রড। বিভিন্ন দেয়ালের পলেস্তারা ধসে পড়ছে। অনেক স্থানেই ফাটল দেখা দিয়েছে। সিলিংজুড়ে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা। বড় বড় বটবৃক্ষ জন্মেছে যেখানে-সেখানে। বৃষ্টি হলেই ছাদ থেকে পড়ছে পানি। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন জেনেও সেখানে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকরা।

অভিভাবক মোঃ মামুন হোসেন বলেন, কলেজের জরাজীর্ণ ভবন দেখে আমি বিস্মিত, আমি আমার মেয়েকে কলেজে পাঠিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকি, কখন না জানি ভবন ধসে কোন বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে। 

করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরে নতুন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলায় শিক্ষার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হচ্ছিল ক্যাম্পস। কিন্তু কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। 

২০১৬ সালে ছাত্রবাস নির্মান কাজ শুরু হলেও অর্থের বরাদ্দ না থাকায় তা নির্মান কাজ বন্ধ রয়েছে। একাডেমিক ভবনের তিনতলায় দীর্ঘদিন যাবত আবাসীক ছাত্রদের জন্য হোস্টেল হিসাবে ব্যবহার হচ্ছিল। আগে ছাত্রদের উপর ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ে কয়েকজন ছাত্র আহত হওয়ায় এই ভবনে থাকা ঝাঁকিপূর্ণ বলে হোস্টেল বাতিল হিসাবে ঘোষনা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

আবাসিক হলের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী পলাশ আহম্মেদ জানান, কলেজে ছাত্র হোস্টেল না আমাদের খুবই অসুবিধার মধ্যে পরতে হচ্ছে। এখানে ব্যাচেলরদের কেউ বাসা ভাড়া দিতে চায়না এখন যেখানে আছি সেখানে ঘিঞ্জিঘরের মতো অতিরিক্ত ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে ছাত্রদের পড়ালেখার ব্যয়বৃদ্ধি সহ পড়ালেখায় ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। 

কলেজ ছাত্র মেহেদী হাসান রিফাত বলেন, কলেজে ভবনগুলো এতোই ঝাঁকিপূর্ণ যে ক্লাসে বসতে আমাদের সবসময় আতঙ্কের মধ্য থাকতে হয় কখন জানি ভেঁঙ্গে পড়ে আমাদের উপড়, এতে আমাদের নিরাপদ শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যহত হচ্ছে অতএব কলেজটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি। 

কলেজের অধ্যক্ষ হাসানূল হক সিরাজী বলেন, কলেজ ভবনগুলো আসলেই অত্যান্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় হয়েছে। কলেজের আশু সংস্কার প্রয়োজন, শিক্ষার্থীসহ সহ আমরা নিজেরাও সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। এ ব্যপারে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে স্থানীয় এমপি মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন বলে জানান তিনি।

এ ব্যপারে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মীর গোলাম ফারুক জানান, কলেজটি আসলেই অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধিনে শিক্ষা বিভাগ ও শিক্ষা প্রকৌশলী কলেজ ভবন তৈরীতে যথাযথ মান ঠিক না রেখে ভবন তৈরী করার কারনে অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনের পলেস্তারা ধসে পরছে, রেডে মরিচা ধরেছে, পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। সরকারী বরাদ্দ পেলে ঝুকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার করে ব্যবহারের উপযুগী করে তোলা হবে বলে জানান তিনি। 

শিক্ষা এর আরও খবর: