নানা সংকটে জর্জরিত কালকিনি কলেজ: প্রশাসনিক দুর্বলতা ও শিক্ষকের গাফিলতিতে ভেঙে পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রম

 প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন   |   শিক্ষা


জিয়াউদ্দিন লিয়াকত, নিজস্ব প্রতিবেদক 

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ বর্তমানে নানা সংকটে জর্জরিত। প্রশাসনিক দুর্বলতা, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের পাশাপাশি এবার উঠে এসেছে এক সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ক্লাস না নিয়েই বেতন-ভাতা গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, কলেজটির অনার্স শাখার ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক সহকারী অধ্যাপক নাজমুল নাহার প্রায় টানা চার বছর নিয়মিত শ্রেণি পাঠদান না করিয়েই শুধুমাত্র হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে দায়িত্ব পালন দেখিয়ে আসছেন। অথচ এই সময়ে তিনি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বেতন-ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই ডিপার্টমেন্টর প্রধান অধ্যাপক এসএম জলিল। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ক্লাস কার্যত অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এতে বাড়তি অর্থনৈতিক চাপও তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানাযায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এক সময় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করতে আসত। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। কলেজটিতে ১২টি অনার্স কোর্স চালু থাকলেও কয়েকটি বিভাগ ছাড়া অধিকাংশ বিভাগেই শিক্ষার্থী সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। 

এবিষয়ে কলেজর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হান্নান দাড়িয়া অভিযোগ শিকার করে বলেন, অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক নাজমুন নাহার গত চার বছর ধরে তার নিজ ডিপার্টমেন্টে এবং ক্লাসে যায় না শুধু অফিস কক্ষে হাজিরা দিয়ে চলে যায়। এবং নিয়মিত বেতন তোলেন এই বিষয়টি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের সাথে কথা বলে শীঘ্রই জি বি মিটিংয়ে উপস্থাপন করবো।

কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার কারণে নিয়মিত ক্লাস অনুষ্ঠিত হয় না। পরীক্ষার সময়সূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বেপারী বলেন, কলেজের শিক্ষার মান অতি তলানিতে আছে, এই চরম পরিস্থিতির জন্য দায়ী শিক্ষক রাজনীতি। শিক্ষকদের রাজনীতি ও দলাদলি পরিহার করতে হবে এবং যদি এই কলেজের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হয়  তবে প্রথমে আমরা যারা স্থানীয় অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষক  রয়েছি তাদের সোচ্চার হয়ে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সহযোগিতা করা উচিত। 

কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল আরেফিন বলেন, আমি শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানতে পারি এই কলেজে একজন নিয়মিত রয়েছে কিন্তু তিনি মামলা সংক্রান্ত জটিলতা দায়িত্ব নিতে পারছেন না। আগামী মে মাসে মামলার একটি স্টে আদেশের মেয়াদ শেষ হবে, পরবর্তীতে যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে চান তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করব। এছাড়াও অভিযুক্ত শিক্ষিকা নাজমুন নাহারের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলেজটির হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ প্রশাসন গঠন, শিক্ষকদের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালুর বিকল্প নেই বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

শিক্ষা এর আরও খবর: