রায়পুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, নদী গর্ভে বিলিন অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি।

 প্রকাশ: ২১ অগাস্ট ২০২০, ০৬:৩১ অপরাহ্ন   |   অপরাধ


লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি শরিফ হোসেনঃ

 নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে লক্ষ্মীপুর জেলা রায়পুর উপজেলার ২ নং উত্তর চরবংশি ইউনিয়ন, ১ নং উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন ও ৮ নং দক্ষিণ চরবংশি ইউনিয়ন এলাকার চর ইন্দুরিয়া পুরান বেড়ির মাছ ঘাট, আলতাফ মাষ্টার মাছ ঘাট, হাজীমারা,মিয়ার হাট,পানির ঘাট,কাটাখালী ব্রিজ, ডাকাতিয়া নদী সহ গ্রামের অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি মেঘনা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।


এ নদীর তান্ডবে ভিটামাটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ওই এলাকার সাধারন মানুষ। এ ছাড়া নদী গর্ভে বিলিন হতে চলেছে শতাধিক বাড়িঘর ও ঐতিহ্যবাহি চর বংশী। হয়তো যে কোন মুহুর্তে ওই গ্রামকেও পুরোপুরিভাবে কেড়ে নিতে পারে আগ্রাসী হয়ে ওঠা মেঘনা নদী।


এতে করে ভয় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদীর পাড়ের ৫ গ্রামের মানুষ। এদিকে নদী ভাঙ্গনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে আজ (২১ আগষ্ট) শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে এক এক করে অভিযোগ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।


সরেজমিন ও স্থানীয় লোকজনেরা জানান, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০/১২ কিলোমিটার দুরে রয়েছে এ গ্রাম। এ গ্রামের একেবারে পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মেঘনা নদী। এ গ্রামটি প্রত্যান্তঞ্চলে হওয়ায় অবহেলিতভাবে পড়ে আছে। বিগত দিনেও নদী গর্ভে চলে গেছে এ গ্রামের অনেক গাছপাল, বাড়িঘর ও কয়েকশ’ একর ফসলি জমি। তখন কেউ এগিয়ে আসেনি এ গ্রামের মানুষের পাশে। বর্তমানে এই গ্রামের অবহিলিত শিক্ষার্থীদের একমাত্র লোকের বসত বাড়ির চারপাশেই তীব্র ভাঙ্গনে মাটি সরে গেছে।


বর্তমানে পূনরায় একের পর এক মেঘনা নদীর পেটে চলে গেছে আলী হোসেন, সোবহান হোসপন ও কামাল হোসেনসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও ধান,পাটসহ বিভিন্ন প্রকার ফসলি জমি। ভাঙ্গন ঝুকিতে রয়েছে শতাধিক বসতবাড়িসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। বর্তমানে পানির ঘাট, চর ইন্দুরিয়া পুরান বেড়ির মাছ ঘাট, চর ঘাসিয়া-চর জালিয়াসহ ৫টি গ্রামের মানুষ নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। গ্রামের অবহেলিত চর বংশী গ্রামের মানুষেরা বর্তমানে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোন প্রকার ত্রানও পাননি। পানিবন্ধি হয়ে কাজকর্ম না করতে পেরে এখন খাদ্য অভাবে দিন কাটাতে হচ্ছে অনেকের।


কিন্তু দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারিভাবে কোন ব্যবস্থ্য না নেয়া হলে পুরো চর বংশী গ্রাম যে কোন মুহুর্তে বিলিন হতে পারে। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিন চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে ওই ভাঙ্গন কবলীত এলাকার নদী থেকে অবৈধভাবে দেদারছে বালু উত্তোলন করে আসছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। আর সে কারনেই বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দাবী করেছেন। আর বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশীলী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলতে সাহস পাচ্ছেনা অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।


ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা বলেন, জুরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধ ও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না করা গেলে অচিরেই হয়তো আমাদের গ্রাম গুলো অস্তিত্বই হারিয়ে যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত রহিমা বেগম ও আয়শা বেগমসহ বেশ কয়েকজন বলেন, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে আমাগো ঘরবাড়ি, জায়গা জমি সব কেড়ে নিয়ে গেছে মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী। তবে বালু উত্তোলন ও ভাঙ্গন রোধ না করা হলে আমাগো বাকি যা আছে সব নদী চলে যাবে আমরা গ্রামবাসি নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচতে চাই।


উত্তর চরবংশি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হোসেন হাওলাদার বলেন,নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে প্রসাশন অনেক বার তাদের আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রশাসনের লোক আসলে ড্রেজার বন্ধ রাখে তারা চলে গেলে আবার বালু উত্তোলন করে এদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

অপরাধ এর আরও খবর: